আজকের রোববারের তারিখটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল প্যালিনড্রোম যা ৯০০ বছরেরও বেশি সময় পর এসেছে।

বিজ্ঞাপন

রোববারের তারিখটি একটি আন্তর্জাতিক প্যালিনড্রোম। আপনি যে তারিখটি “দেশ / মাস / দিন / বছর” বা “দিন / মাস / বছর” হিসাবে লেখেন না কেন এটি কার্যকর হয় যেকোনো বিপরীত দিক থেকে।

এই জাতীয় তারিখগুলোকে “সর্বব্যাপী প্যালিনড্রোমস” বলে এবং এটি ১০১ বছরের জন্য আর পাওয়া যাবে না। এর পরে, আপনাকে ৩ মার্চ, ৩০৩০ অবধি অপেক্ষা করতে হবে।

এই জাতীয় প্যালিনড্রোমের শেষ তারিখটি ছিল ১১/১১/১১১১  – ৯০০ বছর আগে।

প্যালিনড্রোম হল এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দুদিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোন বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (সংখ্যার ক্ষেত্রে)। মূল গ্রীক শব্দ প্যালিনড্রোমাস (অর্থ: Running back again) থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে καρκινικός থেকে। বাংলা ভাষায় একে দ্বিমুখী শব্দ বা সংখ্যা বলা যায়।

এধরনের দ্বিমুখী শব্দ বা বাক্য সাজাতে যারা দক্ষ তাঁদের ‘পেলিনড্রোমিস্ট’ বলা হয়। প্যালিনড্রোমিক লেখা প্রাচীন ‘কিরাতার্জুনীয়’ কাব্যের বহু অনুচ্ছেদে দেখা যায়। এমনই একটি অনুচ্ছেদ হল- “সারস নয়না ঘন অঘ নারচিত রতার কলিক হর সার রসাসার রসাহর কলিকর তারত চিরনাঘ অনঘ নায়ন সরসা”, চতুর্দশ শতকে দৈবজ্ঞ সূর্য পণ্ডিতের লেখা ‘রামকৃষ্ণ বিলোম কাব্যম’ নামে ৪০টি শ্লোকের যে বিখ্যাত কবিতা রয়েছে তার রচনাশৈলীও ভারি অদ্ভুত। প্রতিটি শ্লোকই এক-একটি প্যালিনড্রোম।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের আজকের দিনে ২ তারিখে বিয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে হুড়োহুড়ি পড়েছে। এই দিনটিকে সৌভাগ্যের দিন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। দিনের সংখ্যা ক্রম হচ্ছে ০২-০২-২০২০। এই ধরণের সংস্কারের কারণ, শুরু ও শেষ থেকে পড়লে এই সংখ্যাকে একই মনে হবে। ফলে দিনটিতে বিয়ের জন্য মুখিয়ে ছিলেন অনেকেই। চীনেও সেই প্রভাব পড়েছিল।

এরই মাঝে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে যায়। সৌভাগ্যের দিন এখন ভুলতে বসেছেন সবাই। প্রাণ বাঁচাতে নাক-মুখ ঢেকে ঘরবন্দি চীনারা। যে কোনও সময় করোনাভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে। আর এই ভাইরাস রোধে এখনও পর্যন্ত প্রতিষেধক বের করা যায়নি। ফলে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রবল। এমন অবস্থায় বিয়ের দিন পিছিয়ে দিতে চীনের নাগরিক পরিষেবা বিভাগগুলির তরফে বার্তা দিয়ে আপাতত বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।