ইসকন মন্দির ও ইসকনের অন্যান্য স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করা জঙ্গি সংগঠন আনসার আল-ইসলামের গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ জঙ্গিকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল মাহমুদ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তাদের পক্ষে বিচারকের অনুমতি নিয়ে এক আইনজীবী দাঁড়িয়ে রিমান্ড বাতিল চান। শুনানি শেষে বিচারক চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া সন্দেহভাজন পাঁচ জঙ্গি হলেন- মো. নিজাম উদ্দিন, মো. রায়হান ভূঁইয়া, মো. হানিফ উদ্দিন সুমন, শেখ ইফতেখারুল ইসলাম ওরফে আরিফ ও মুফতি মুসলিম উদ্দিন।

সোমবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার ইলিয়াস শরীফ বলেন, সংগঠনের দাওয়াতি শাখার প্রধান নাজমুল ওরফে উসমান গণি ওরফে আবু আইয়ুব আল আনসারীর মাধ্যমে আটক পাঁচজন আনসার-আল ইসলামে উদ্বুদ্ধ হন। তারা নিজেদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অ্যাপসে যোগাযোগ করতেন।

গতকাল রবিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর সবুজবাগের বালুরমাঠ এলাকা থেকে আনসার-আল ইসলামের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, তিনটি ব্যাগ ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানাতে সংবাদ সম্মেলনে করে ডিএমপি।

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াছ শরীফ বলেন, সংগঠনের দাওয়াতি শাখার প্রধান নাজমুল ও ওরফে উসমান গনি ও ওরফে আবু আইয়ব আল আনসারীর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপ ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃতরা আনসার-আল ইসলামের সদস্য হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়। ইসকন মন্দির ও ইসকনের অন্যান্য স্থাপনায় হামলাসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনটির পাঁচ জঙ্গি একত্রিত হয়েছিল। পরে তারা আমাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

সিটিটিসির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে- তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, টেলিফ্রাম, অনলাইন চ্যাট গ্রুপ ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করে এবং সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ করত।

ইলিয়াছ শরীফ বলেন, দাওয়াতি শাখার প্রধান নাজমুল ইতিপূর্বে জঙ্গিবাদবিরোধী চলচ্চিত্র নির্মাণ করায় চলচ্চিত্র নির্মাতা খিজির হায়াত খানকে হত্যা চেষ্টা ও পরিকল্পনায় সমন্বয় করেছিল। সে কুয়েতে থাকাকালীন টেলিগ্রাফে ‘এসো কাফেলা বদ্ধ হই’ গ্রুপের মাধ্যমে এই হত্যা চেষ্টার পরিকলনায় নেতৃত্ব দেয়। এ ঘটনায় ২০১৮ সালে এই সংগঠনের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে নাজমুল দেশে ফিরে পুনরায় সংগঠনের সদস্যদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটের জন্য কাজ করছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান সিটিটিসির এই কর্মকর্তা।