ভালোবাসা হোক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এই স্লোগানে ভালোবাসা দিবস উদযাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে দিনব্যাপী চট্টগ্রাম ডিসি হিলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় সমাজের নানান অসংগতি ও সমাধান।

এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত স্কুল অব হিউম্যানিটি এন্ড এ্যানিমেশন তথা সোহা স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীবৃন্দ।

তারা অভিনয়, নৃত্য ও গানের মাধ্যমে সমাজের নানান সমস্যা ও সমাধান তুলে ধরে। সামাজিক পরিবর্তন সৃষ্টির আহ্বান জানায় তারা সমাজের সকল স্তরের মানুষদের।

এসময় সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি মুরাদ শামসুল আলম খাঁন বলেন, ভালোবাসা দিবসে সবাই যখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। ঠিক তখন আলোর আশা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কয়েকজন তরুণ-তরুণীরা ভালোবাসা ভাগ করে নিয়েছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে এজন্য সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানাই যারা অতীতে ও বর্তমানে আমাদের সাথে ছিলেন।

মহৎ এই উদ্দ্যোগের কারণ জানতে চাইলে আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ আনোয়ার এলাহি ফয়সাল বলেন, ভালোবাসা দিবস নয় আমাদের মূলমন্ত্র গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গি দূর করে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করা। মানবতা, সুশিক্ষা সচেতনতা এই তিনটি বিষয়ের উপর কাজ করে আলোর আশা। যুব সমাজের পরিবর্তন না হলে কখনো আমাদের সমাজ পরিবর্তন হবে না। যুব সমাজের হাত ধরেই সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। এবং আজকের শিশু আগামী বাংলাদেশ আমরা যদি তাদের নৈতিকতা ও সুশিক্ষার আওতায় না আনতে পারি তাহলে এই শিশুদের ভবিষ্যত অন্ধকার ।

ফয়সাল বলেন, তাদের পাশাপাশি নিজেদের ও পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের সমাজে আমরা যে কোন কাজ আরম্ভ করি কিন্তু ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে শেষ করি না। যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করি না আমাদের এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র কোন দিবস বা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয় বরং সারাবছর সমাজের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভালোবাসতে হবে তাদের জীবনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে সমাজের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই আমরা সুন্দর এক বাংলাদেশ বিনির্মান করতে পারবো।

শিশুদের জন্য দুপুরের খাবার ও বিভিন্ন উপহারের ব্যবস্থা করেন আলোর আশা যুব ফাউন্ডেশন এর ত্রাণ দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক কামরুন নাহার।

এদিকে এমন আয়োজনে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগত দর্শকবৃন্দ শিশুদের গোলাপ ফুল ও চকলেট দিয়ে ভালোবাসা বিনিময় করেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আলোর আশার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর রহমান ইমন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কোষাধ্যক্ষ কুতুব উল্লাহ শাহ-সোহেল, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক নওশাদ হাসান রাজু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নওরীন নেওয়াজ। সংগঠনের শিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফাহমিদা আক্তার, সাইমুন আক্তার, মুক্তা শিকদার ও রাশেদ উল্ল্যাহ সহ আরো অনেকে।

উপস্থিত সকলে বলেন বলেন, সবাই যখন তাদের আপনজনদের নিয়ে ভালোবাসা বিনিময় করে তখন আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভালোবাসা ভাগাভাগি করি। আজ আড়াই বছরে ওরা আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে গিয়েছে। ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের অধিকার।সেই ভালোবাসা বঞ্চিত হয় এই শিশুরা ওরা ওদের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ পায় না ঠিকভাবে।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে তাই আমরা সমাজের সকল মহলকে বলি ভালোবাসা হোক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য। এজন্য আমরা চেয়েছি আজকের দিনটি সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও সোহা শিক্ষার্থীদের অমর করে রাখতে। আমরা বিশ্বাস করি গতানুগতিক দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব।