আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুবার্ষিকীতে চাচার প্রতি নওফেলের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

31

আজ ৪ নভেম্বর বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। তার শ্রদ্ধাজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাড়াও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্দ্যেগে দিনব্যাপী স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এছাড়াও মরহুমের আনোয়ারা হাইলধরের গ্রামের বাড়িতে পরিবারের পক্ষ থেকেও খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ছাড়াও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে জানালেন প্রয়াত নেতার বড় ছেলে ভুমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

এদিকে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদকে স্মরণ করে ৪ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে চাচার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন চট্টগ্রামের আরেক প্রয়াত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আস্তাবাজন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তৎকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চের কয়েকটি ছবিসহ রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৯ মিনিটে নওফেল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রয়াত এ রাজনীতিবিদকে শ্রদ্ধা জানান।

নওফেল তার ফেসবুক পেইজে বিনম্র শ্রদ্ধা… শিরোনামে লিখেছেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চাচার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী।

তিনি লিখেছেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চাচা মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৭২ সালে গঠিত গণপরিষদের সদস্য, স্বাধীনতার পর ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে এম.পি, ১৯৭৮ থেকে আমৃত্যু চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি, এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট ও পরবর্তীতে প্রশাসক, ওআইসি ভুক্ত দেশ সমূহের চেম্বারের প্রেসিডেন্ট, ১৯৮৯ সালে ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম মাটি ও মানুষের বন্ধু জননেতা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু চাচার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

উল্লেখ্য : ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১২ সালে ৪ নভেম্বর ৭১ বছর বয়সে আখতারুজ্জামান চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেন। ব্যক্তি জীবনে ৩ ছেলে ও ৩ কণ্যার জনক ছিলেন তিনি।

বড় ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বর্তমানে আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। মেজ ছেলে আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ইসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে আসিফুজ্জামান চৌধুরী জিমিও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৪৫ সালে আনোয়ারা হাইলধর গ্রামে আইনজীবী নুরুজ্জামান চৌধুরী ও খোরশেদা বেগমের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। পটিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯৫৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হন ওই বছর। তখন দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন বাবু।

ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে পড়ার সময় তিনি বৃত্তি পেয়ে আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ভর্তি হন। পরে তিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশনে পড়ালেখা করেন। সেখান থেকে এসোসিয়েট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরেন। ১৯৬৫ সালে ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হন। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০৯ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

স্বাধীনতার পূর্বে তিনি বাটালি রোডে রয়েল ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিনথেটিক, প্যান আম বনস্পতি, আফরোজা অয়েল মিল, বেঙ্গল সিনথেটিক প্রোডাক্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ভ্যানগার্ড স্টিল মিল, সিনথেটিক রেজিন প্রোডাক্ট ক্রয় করে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে জামান শিল্পগোষ্ঠীর গোড়াপত্তন করেন। তিনি বিদেশি মালিকানাধীন আরামিট মিল কিনে নেন। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) এর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

তিনি দু’দফায় চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠক এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওআইসিভুক্ত দেশসমূহের চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭ জাতি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।