মাটির ওপরে ট্রেন ঠিকমত চলছে না,শুন্যের ওপর মেট্রোরেল চলবে কিভাবে?

13

রেল দুর্ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটছে। মাটির ওপরে ট্রেন ঠিকমত চলছে না, মেট্রোরেল কিভাবে চালানো হবে? শুন্যের ওপর দিয়ে মেট্রোরেল করা হচ্ছে। এই ট্রেন যে পড়ে যাবে না, তার নিশ্চয়তা কি।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতা এসব কথা বলেন।

রওশন এরশাদ বলেন, একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আমরা মাটির ওপর দিয়ে ট্রেন ঠিকমত চালাতে পারি না বলে দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আবার শুন্যের ওপর দিয়ে মেট্রোরেল করা হচ্ছে তখন চালাবো কিভাবে? এই ট্রেন যে পড়ে যাবে না, তার নিশ্চয়তা কি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি জনগণের জন্য যা প্রয়োজন তাই নিয়ে কথা বলে। বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতির ধারা বদলে দিয়েছি। অতীতের বিরোধী দল যা করেনি আমরা তা করেছি। আমরা যে সব কথা বললে জনগণের উপকার হয় সে সব নিয়ে কথা বলেছি।

তিনি বলেন, যানজট নিরসনে বড় বড় ফ্লাইওভার, এখন মেট্রোরেল তৈরি করা হচ্ছে। এত টাকা খরচ করে এগুলো তৈরি না করে, এই টাকা দিয়ে সারা দেশে শিল্প উন্নয়ন করলে বেকার সমস্যা দূর হত। ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা গেলে যানজট থাকতো না।

বিরোধী দলের নেতা বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তনু, পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা আকতারসহ এ পর্যন্ত যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সবগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য আইনমন্ত্রীকে বলেন, দ্রুত বিচার করুন। তাহলে মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

রওশন বলেন, কিছু কিছু হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হয় আবার কিছু হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে না। নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হলেও সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো শুরুই হয়নি। কিছু কিছু মামলা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যেগুলো সরকার চায় সেগুলো দ্রুত বিচার হয়। আর সরকার যেগুলো চায় না সেগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়। এসব মামলা দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

চলমান ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতা বলেন, যখন ঢাকা ও চট্টগ্রামে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয় তখন কিছু কিছু ক্লাব ও বাড়িতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও নগদ টাকা পাওয়া গেছে। এই অভিযানে প্রধানমন্ত্রী নিজের দলের নেতাদেরও ছাড় দেননি। এসব ক্লাবে ক্যাসিনোর খবর স্থানীয় থানাগুলো কেন দেখেনি। আমি চাইবো শুদ্ধ অভিযান অব্যাহত থাকুক।

নিরাপদ খাদ্য নিয়ে তিনি বলেন, এখন নিশ্চিন্ত মনে কোনো খাবার খাওয়া যায় না। হোটেলগুলো ২০ বছর আগের ঝোল ও ডাল বিক্রি করছে। খাদ্য নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নেই। সরকার না চাইলে মানুষ হাজার চেষ্টা করেও নিরাপদ খাদ্য খেতে পারবে না।

রোহিঙ্গা নিয়ে রওশন বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু অনেক দিনের। এখনও হয়নি। কবে এটার সমাধান হবে, কে জানে। তাদেরকে যত তাড়াতাড়ি পাঠানো যায় ততই মঙ্গল।