অর্থ সংকটে বিনা চিকিৎসায় পঙ্গুত্বের পথে ফটিকছড়ির সাংবাদিক রফিক

6

২৪ ঘন্টা চট্টগ্রাম ডেস্ক : সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে গত ৪০ দিন যাবৎ অনেকটা পঙ্গুত্বের জীবন যাপন করছে ফটিকছড়ির সাংবাদিক ছোট রফিক। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর রফিকের মাথার আঘাত সেরে উঠলেও পায়ের আঘাত এখনো সারেনি। তার ডান পায়ের টাকনুর উপরে বিশাল ক্ষত হয়েছে।

একদিন পরপর ড্রেসিং করতে হয়। স্ট্রেচারে ভর করে চলতে হয়। তাই চিকিৎসকের মতে সম্ভবত তার পায়ে আরো একটি অস্ত্রোপাচার লাগবে। দিনের পর দিন ক্ষতের পরিমাণ বাড়লেও অর্থ সংকটে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করতে পারছেনা রফিক।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মানবকন্ঠ ও চট্টগ্রামের অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিভয়েস টোয়েন্টি ফোর ডট কম এর ফটিকছড়ি প্রতিনিধি রফিক। এছাড়া সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম তালুকদার সাংবাদিকতার পাশাপাশি মাইজভান্ডারী গানের গীতিকার ও ছড়াকার। নাজিরহাট পৌরসভার গোল মোহাম্মদ তালুকদারতে তার স্থায়ী বসতি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত গীতিকার সাংবাদিক রফিক।

১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে ফটিকছড়ির নাজিরহাটের নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সাংবাদিক রফিক। এসময় হাটহাজারীর নুর আলী মিয়ার হাটের সৈয়দ কোম্পানী সংলগ্ন এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা শান্তি পরিবহন বাসের ধাক্কায় রফিককে বহনকারী সিএনজি অটোরিক্সাটি পাশের খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর তার প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগ উঠে ফটিকছড়ি উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

ফটিকছড়ির সাংবাদিক এম এস আকাশ বলেন, দুর্ঘটনার পর রফিককে যখন নাজিরহাটস্থ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখন তার যথাযথ চিকিৎসা সেবা না করে তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার মাথার পিছনে প্রায় ৬ ইঞ্চি ক্ষত হলেও তাতে ব্যান্ডেজ না করার কারণে সারা পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে রফিকের অবস্থা আরো গুরুতর হয়ে পড়ে। এটি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন চমেক হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

গত ৪০দিনের দীর্ঘ চিকিৎসার পর রফিকের মাথার ক্ষত কিছুটা ভাল হলেও পায়ের অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে। অনেকটা পঙ্গুত্বের দিকে এগুচ্ছে রফিকের অবস্থা। পারিবারিক আর্থিক দৈন্যতার কারণে পারছেনা যথাযথ চিকিৎসা করাতে।

এদিকে সময়ের প্রয়োজনে ফটিকছড়ির বহু রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, সকলেই নানা ভাবে সুবিধা ভোগী এ গনমাধ্যম কর্মীর কাছ থেকে। কিন্তু এ ক’দিনেই সকলেই হয়ে পড়েছে অপরিচিত মুখ। এখন কেউ আর খবর নেয়না তার। অনেকটা নিভৃতেই পড়ে রয়েছেন নাজিরহাটের নিজের ঘরে।

২০১৭ সালের বন্যায় রফিকের ভেড়ার বসতঘর ডুবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরিবারে সকলের বড় রফিককে ছোট ভাই-বোন-মাকে নিয়ে অন্যত্র রাত যাপন করতে হয়। তখনও খোঁজ নেয়নি কোন জনপ্রতিনিধি। অথচ সেই দুর্দশায়ও রফিক ফটিকছড়ির মানুষের দূর্ভোগ-দুর্দশার সংবাদ তৈরী ও পরিবেশনে ব্যস্থ ছিলেন।

সংবাদের পোকা এ সংবাদ কর্মী। যে খানেই সংবাদ ছুটে গিয়েছেন সেখানে। উপজেলার অনেক সিনিয়র সাংবাদিকর তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন রফিককে। কিন্তু দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তারা সবাই হয়ে গেছেন এখন অজানা রাজ্যের বাসিন্দা। অসহায় রফিক এখন নিজের নিজের ভাগ্যের সাথে যুদ্ধ করছেন।