আজ বিশ্ব এইডস দিবস

36

আজ ১ ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস। ‘এইডস নির্মূলে প্রয়োজনঃ জনগণের অংশগ্রহণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হবে।

১৯৮৮ সাল থেকে এইডসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বে এ দিবসটি পালন করে থাকে।

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। ইউএনএইডস-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এ মরণঘাতী রোগে মৃত্য্যুবরণ করেছে।

১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এইচআইভি কেস সনাক্ত হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশে ৩৩৮ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়। আর ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম এ রোগ প্রকাশ পায় এবং একই বছরে দেশটির লস অ্যাঞ্জেলস রাজ্যের পাঁচ সমকামী এই রোগে আক্রান্ত হন। এক গবেষণায় জানা গেছে, সমকামীদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এইডস প্রতিরোধ ও নির্মূলে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতাসংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসমূহকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশে অদ্যাবধি এইচআইভি সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, অসচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণার জন্য এইডস এর ঝুঁকি বিদ্যমান। তাই প্রতিকারের পাশাপাশি এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি, কুসংস্কার দূরীকরণ ও মানুষের আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ আবশ্যক। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এইডস নির্মূল করতে হলে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততা খুবই জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেছেন, প্রতিটি এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানে ১০টি সরকারি হাসপাতাল থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনামূল্যে এইডসের চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এটি আরো সম্প্রসারিত হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত লোকের সংখ্যা ৩ কোটি ৭৯ লাখ (২০১৮)। ২০০৮ সাল থেকে প্রতিদিন নতুনভাবে এক হাজারেরও বেশি শিশু এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছে। UNAIDS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১১ হাজারের কিছু বেশি। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এইডস/এইচআইভিতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ হাজার ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, এইচআইভি জীবাণু মানবদেহে প্রবেশ করার পর এইডস রোগ দেখা দেয়। এইচআইভির জীবাণু বহনকারী ব্যক্তির এইডস হতে ৮ মাস থেকে ১০ বছর সময় লাগে। এইচআইভি জীবাণু চার উপায়ে মানবদেহে প্রবেশ করে।

যেমন- ১. এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সংসর্গের মাধ্যমে। ২. এইডস আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির রক্ত বা রক্তজাত উপাদান সুস্থ ব্যক্তির দেহে পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে। ৩. এইচআইভি সংক্রমিত ইনজেকশনের ছুঁচ, সিরিঞ্জ, দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি এবং অস্ত্রোপচারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে। ৪. এইডস ভাইরাস আক্রান্ত মা থেকে গর্ভস্থ শিশুর দেহে এবং বুকের দুধ খায়ানোর মাধ্যমে। এইডসের চিকিৎসার কার্যকর ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তাই প্রতিরোধই প্রধান উপায়। উপরে উল্লেখিত চার বিষয়ে সচেতন থেকে এইডস প্রতিরোধ করা সম্ভব।