নব্য রাজাকার সনাক্তের দাবি;মুক্তিযোদ্ধা দিবসকে স্বাগত জানালো চট্টগ্রাম

78

নব্য রাজাকার ও নব আলবদর সনাক্তের মধ্য দিয়ে বর্ণচোরাদের রুখে মুক্তিযোদ্ধাদের অসমাপ্ত লক্ষ্য মাত্রা সমাপ্তের দাবি জানানো হয়েছে ।

মুক্তিযোদ্ধা দিবসকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রামের প্রগতিশীল জনতা।

এ উপলক্ষে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী । কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ জাতীয় সংগঠন ‘বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে’র সহ-সভাপতি পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিজয়ের মাসকে বরণ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভাটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্ট চট্টগ্রামের সভাপতি সাহিত্যিক ও ছড়াকার আ.ফ.ম মুদাচ্ছের আলী, নগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দেবনাথ, যুব সংগঠক এড. সৈয়দ খোরশেদ আলম হেলাল, সাংস্কৃতিক কর্মী কবি সজল দাশ, রিপন বড়ুয়া, তানভীরুল ইসলাম নাহিদ, মোহাম্মদ হোসেন, চট্টগ্রাম দোকান কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকন, সভাপতি তামাকুমন্ডলী লেইন দোকান কর্মচারী সমিতি মোহাম্মদ বখতিয়ার, চট্টগ্রাম হকার্স লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ রনি, আন্দরকিল্লা হকার্স লীগের সভাপতি লোকমান হাকিম, মো: ওমর ফারুক, মো: ইউসুফ, মো: সোহেল, মো: আনোয়ার, মো: কাউসার, মোহাম্মদ কবির প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে এতোবেশি প্রাণ বলিদানের দৃষ্টান্ত বিশ্বে নেই। ত্রিশ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগ মায়ের অশ্রু দ্বারা ও বীরের রক্তস্রোতে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি মাত্র অঙ্গুলি হেলেনে একটি নিরস্ত্র জাতি সামগ্রিকভাবেই সশস্ত্র হয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চের অনেক আগে থেকেই বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামে প্রাণিত করেছিলেন। তাই স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সাথে সাথে এই পবিত্র মাতৃভূমি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। এ গৌরব গাথা পৃথিবীর বিভিন্ন জাতি মুক্তি সংগ্রামকে উদ্দীপ্ত করেছিল।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী নব্য রাজাকার ও নব আলবদর সনাক্তের মধ্য দিয়ে বর্ণচোরাদের রুখে মুক্তিযোদ্ধাদের অসমাপ্ত লক্ষ্য মাত্রা সমাপ্তের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি বিজয়ী জাতির স্বাধীনতা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। আমরা এ সত্যটিকে ধারণ করে যাচ্ছি বলেই কোনো দুঃসময় চিরস্থায়ী হয়নি। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শের সর্বোচ্চ ঠিকানা। তাঁর বিশাল বিটপী নেতৃত্ব আমাদের প্রেরণা এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।

সভাপতির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট স্মৃতি বিজড়িত বিজয়ের মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপ কমিটির আহ্বায়ক মিরন হোসেন মিলন বলেন, মানবসভ্যতার ইতিহাসে যে কোনো দেশে মুক্তিযুদ্ধ মানবতাকেই বিজয়ী করেছে। এ বিজয় আমাদের কাছে ভালোবাসা ও অনুগতের ধন। এ ধনটিতে কোনো পাপ স্পর্শ করতে পারে না।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের শুরুতেই ১৯৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের স্মরণ ও ৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালোরাত্রিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তাঁর পরিবারের সকল সদস্য এবং জাতীয় চারনেতা ও চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মাঈন উদ্দিন খান বাদল এম.পি’র আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।