গাছ চুরির

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি গোমতী বেড়িবাঁধের ওপর থেকে এবং বামইল সমিতির সামনের সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে সরকারি জায়গার ১৫ লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪মাস ধরেই পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের নেতা, সাবেক চেয়ারম্যান, স’মিল মালিক ও কিন্ডারগার্টেন পরিচালক সহ কয়েকেজন বিভিন্ন সময় পুরোনো ও বড় সাইজের প্রায় ২০-২৫টি একাশী ও মেহগনি গাছ কেটে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

পাঁচথুবি এলাকার জালুয়াপাড়া ও ঝাকুনি পাড়া স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতী বাঁধের জালুয়াপাড়া মোড় থেকে ঝাঁকুনি পাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার জায়গা থেকে দিনে ও রাতে বিভিন্ন সময় প্রায় ২০টি মূল্যবান গাছ কাটা হয়।

স্থানীয়দের মাঝে একজন জালুয়াপাড়া এলাকার লাল মিয়া, বাঁধের ওপরের চা দোকানী আলামিন, শিহাব সহ এলাকার কয়েকজন বলেন, পাঁচথুবি ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সাবেক সভাপতি স’মিল মালিক সেলিম এবং সাদেক মিয়ার নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা ও বাঁধের ওপর থেকে লাল মিয়া নিজে সহ আরো কয়েকজন শ্রমিক হিসেবে এসব গাছ কেটেছেন বলে স্বীকার করেন।

লাল মিয়া বলেন, বাধেঁর ওপরের সরকারি জমির গাছ তারা কিনেছেন জানিয়ে আমাকে কাটার জন্য চুক্তি দিলে আমি মজুরির বিনিময়ে কিছু গাছ কেটে দিয়েছি। এসময় বাধেঁর নিচের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় ১কি মি এলাকা ঘুরে বেশকিছু মোটা গাছের কাটা গুঁড়িও দেখা যায়। এছাড়াও কিন্ডারগার্টেন নির্মাণের কথা বলে গত একমাস ধরে ইউনিয়নের বামইল সমিতির সামনের শিবেরবাজার- নিশ্চিন্তপুর সড়কের পাশ থেকে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জাকির হোসেন রতন, আব্দুল জলিল জুয়েল, এনায়েতুল সহ একটি চক্র সরকারি ২০-২৫ টি গাছ কেটে নিয়েছে রাতের আঁধারে।

এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে সরকারি গাছ কাটতে বাঁধা দিলে, ফরেস্ট অফিসকে ম্যানেজ করে অনুমতি নিয়েই গাছ কাটছেন বলে জানায় তারা ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, এভাবে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বনবিভাগের লোকজন গোপনে অনুমতি কিংবা অবৈধ সুবিধা নিয়ে দুঃষ্কৃতিকারীদের সহায়তা করলে আর কোন গাছই থাকবে না।

সাংবাদিকদের স্থানীয় সচেতন নাগরিকগন বলেন, এভাবে বৃক্ষ নিধন করা হলে জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পরবে। ভারত সীমান্তবর্তী পাঁচথুবি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে সরকারি সম্পদ চুরি ও মূল্যবান গাছ কাটার হিরিক পরেছে তা দ্রুত বন্ধ করা সহ সরকারি সম্পদ লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

গেমতী বাঁধের ওপরের সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পাঁচথুবি ইউপি আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গাংচরের খাগড়াছড়ি স’মিল মালিক সেলিমের কাছে ফোন দিলে, তিনি ফোনে কথা বলবেন না জানিয়ে প্রতিবেদককে সরাসরি তার স’মিলে আসতে অনুরোধ করেন। সেখানে গেলে তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি কোন গাছ কাটেন নি। এসব তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি । এলাকায় গাছ কাটা নিয়ে সাদেক ও জামিলের মধ্যে বিবাদ রয়েছে এ নিয়ে একটি মামলাও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরে এলাকাবাসীর বক্তব্যের ভিডিও দেখালে তিনি তা অস্বীকার করে সাংবাদিকের বলেন “আমি কে চেনেন আপনি” ভিডিওগুলো দেখার কথা বলে তার সাথে থাকা অপর একজন ফোন থেকে কয়েকটি ভিডিও ডিলেট করে দেন। এসময় প্রতিবেদককে ফোন সহ সাথে সবগুলো ডিভাইস বন্ধ করতে বাধ্য করা সহ হুমকি ধমকিও দেন।

এবিষয়ে জালুয়াপাড়া গোলদার বাড়ি এলাকার অভিযুক্ত সাদেক হোসেন সরকারি জমির গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং সরকারি জমি বা বাঁধের কোন গাছ তিনি কাটেন নি।

এ বিষয়ে পাঁচথুবি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন বাহালুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ি ইউনিয়ন এলাকায় সরকারি জমি, সামাজিক বানায়ন কিংবা বন বিভাগের গাছ বিক্রির একটি অংশ (রেভিনিউ) ইউনিয়ন পরিষদের পাওয়া কথা রয়েছে। নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বা টেন্ডার ছাড়া এসব গাছ কেউ কাটার কথাও নয়। আমরা জানা মতে কোন টেন্ডার হয়েছে বলেও শুনিনি। আমার কাছে এমন কোন তথ্য নেই। কবে কারা এসব গাছ কেটেছে সেটাও জানি না। কেউ বেআইনি ভাবে কেটে থাকলে আশাকরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এ বিষয়ে জেলা বন কর্মকর্তা মোঃ নুরুল করিম বলেন, “গাছ কাটার এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। জালুয়াপাড়া বেড়িবাঁধের জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এলাকাটির বন বিভাগ দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন রয়েছেন দিলিপ কুমার তার সাথে কথা বলুন”।

এবিষয়ে দিলিপ কুমারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়েছিলাম । সরকারি জমি থেকে কোন গাছ কাটা হয়ছে এমন কোন আলামত পাওয়া যায় নি। তবে বাঁধের পাশের কয়েকটি গাছ উপরে পরায় স্থানীরা তা কেটে নিয়েছেন বলে শুনেছি।

এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন বলেন, প্রতিরক্ষা বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় গাছগুলো সরকারি বন বিভাগ অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি। কেউ অবৈধ ভাবে কেটে থাকলে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।